ইতিহাস

১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ সাশনের আমলে পুর্ব বাংলায় ৩৩টি উইভিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয় । এই স্কুলগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বাংলার চলমান বস্ত্র শিল্পে দক্ষ টেকনিশিয়ান তেরীর উদ্দ্যেশ্যে। সেই সময়ে এই স্কুলগুলোতে মাত্র ছয় মাসের একটি আর্টিসান লেভেল কোর্স চালু ছিল। এই ৩৩ টি স্কুল বর্তমান বাংলাদেশের  ঢাকা সহ প্রায় ৩৩টি লোকেশনে গড়ে উঠেছিল। স্কুলগুলোতে তখন খুব বেশি শিক্ষার্থী ছিল না । তবুও প্রতিষ্ঠানগুলো চালু রাখা হয়। এ কারণে দিন দিন টেক্সটাইল সেক্টরে বেড়ে চলছিল এ দক্ষ জনশক্তি।

১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে সেই একই আইনে ব্রিটিশ সরকার নতুন আরেকটি উইভিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকার নারিন্দায়। সেখানে ছয় মাস মেয়াদী আর্টিজান কোর্স করানো হতো। এসকল প্রতিষ্ঠান থেকে যে পরিমান দক্ষ জনবল যোগান দেওয়া হতো টেক্সটাইল শিল্পের চাহিদার বিপরীতে তা ছিল অপ্রতুল।

১৯৩০ এর পর ৩৩টি স্কুলের কয়েকটি  আপগ্রেড করে এক বছরের কোর্সে উন্নীত করা হয়। ১৯৫০ সালে নারিন্দার সেই উইভিং স্কুলকে পুর্ব পাকিস্তান টেক্সটাইল ইনষ্টিটিউট নাম দিয়ে ডিপ্লোমা কোর্সে উন্নীত করা হয়। ১৯৬০ সালে এই প্রতিষ্ঠান কে বর্তমান ক্যাম্পাস তেজগাঁও শিল্প এলাকায় স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯৭৮ সালে এই প্রতিষ্ঠান কে ডিগ্রী বা স্নাতক পর্যায়ে উন্নীত করা হয়। তখন এর নাম দেয়া হয় কলজ অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি। বর্তমানে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় রুপে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় নামে বস্ত্র প্রকৌশল শিক্ষার নেতৃত্ব দিচ্ছে।

১৯৬৮ থেকে ১৯৮১ সালে ৩৩টি উইভিং স্কুলের পাঁচটি এবং পরবর্তীতে বরিশালে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে জেলা টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট নামকরণ করে পুলহাট দিনাজপুর, শালগাড়ীয়া পাবনা, বাজিতপুর রোড টাঙ্গাইল, বরিশাল, বেগমগঞ্জ নোয়াখালী এবং জোরারগঞ্জ চট্টগ্রামে দুই বছর মেয়াদী টেক্সটাইল সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা হয়। যার উদ্দেশ্য ছিল টেক্সটাইল শিল্পে মধ্যমানের প্রকৌশলী তৈরী করা। কিন্তু এই কোর্স্ শিল্প কারখানায় তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি।  ১৯৯৩ সালে জেলা টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটগুলোকে টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট নাম করণ করে  চালু হয় তিন বছরের ডিপ্লোমা-ইন-টেক্সটাইল টেকনোলজি কোর্স, বর্তমানে এটি চার বছর মেয়াদে ডিপ্লোমা-ইন-টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স নামে পরিচিত। এটি একযোগে ছয়টি ইনষ্টিটিঊটে চালু হয়, পরবর্তীতে পাবনা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও বরিশাল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে উন্নীত করে বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চালু করা হয়। টাঙ্গাইলের কালহাতীতে বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ঝিনাইদহে শেখ কামাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি রংপুর, নাটোর, খুলনা, চট্টগ্রাম ও গৌরনাদী, বরিশালে একটি করে টেক্সটাইল ইনষ্টিটিউট চালু করা হয়েছে। নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, ফরিদপুর, সুনামগঞ্জ, জামালপুর ও ভোলায় একটি করে ডিপ্লোমা টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এবং পীরগঞ্জ রংপুর, জামালপুর এবং ফরিদপুরে একটি করে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নির্মানাধীন রয়েছে।

৩৩টি উইভিং স্কুলের মধ্যে একটি টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাঁচটি টেক্সটাইল ইস্টিটিউট (যার তিনটি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ) হিসাবে উন্নীত করার পর অবশিষ্ট ২৭টি উইভিং স্কুলকে ১৯৯৬ সালে টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে উন্নীত করে এসএসসি (টেক্সটাইল ভোকেশনাল) কোর্স চালু করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠিত ১৬টিসহ বর্তমানে সারা বাংলাদেশে ৪২টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে।

টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী, পাবনা ১৯১১ সালে বৃটিশ সরকার প্রতিষ্ঠিত ৩৩টি উইভিং স্কুলের মধ্যে অন্যতম। এ প্রতিষ্ঠনটি ভ্রাম্যমান বয়ন বিদ্যালয় হিসাবে বিভিন্ন সময় পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকার কর্তৃক ভাড়া করা ভবন নিয়ে তাঁত শিল্পের বিকাশে বেকার জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের করে দিয়েছে। বর্তমানে এটি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার অরণকোলায় ২.৫০ একর নিজস্ব জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। সাধারণ বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, আত্ন কর্মসংস্থান ও ব্যবসায় উদ্যোগ) পাঠদানের জন্য সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পদমর্যাদার সহকারি শিক্ষক রয়েছেন। টেকনিক্যাল বিষয়ে পাঠদানের জন্য এসিস্ট্যান্ট ইনস্ট্রাকটর, জুনিয়র ইনস্ট্রাকটর (দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড অফিসার), ইনস্ট্রাকটর (প্রথম শ্রেণির গেজেটেড অফিসার) রয়েছেন। প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসাবে সুপারিনটেনডেন্ট সরকারের ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ছাত্র-ছাত্রীদের দৈনিক হাজিরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে গ্রহণের জন্য প্রত্যেককে স্মার্ট আইডি কার্ডের (মেশিন রিডেবল) আওতায় আনা হয়েছে। এর পুরো ক্যাম্পাসটি ক্লোজ সার্কিট ক্যমেরা দ্বারা মনিটর করা হয়।